ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা করবে বিদেশী কোম্পানিগুলো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দফায় দফায় আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দফায় দফায় আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় অনেক বিদেশী কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। কোম্পানিগুলোর মতে, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের মাধ্যমে সম্ভাব্য শুল্ক এড়িয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মার্কিন বাজারে টিকে থাকা সহজ হবে। খবর রয়টার্স।

ফ্রান্সের গ্যাস কোম্পানি এয়ার লিকুইড সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা লুইজিয়ানা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর খাতে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এদিকে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের কিছু ওষুধ কোম্পানিও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। যেমন রোশ আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার কোটি ডলার ও নোভার্টিস ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে গাড়ি ও ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতারাও যুক্তরাষ্ট্রেই উৎপাদন বাড়াতে চাচ্ছে। জাপানের হোন্ডা, দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই, স্যামসাং ও এলজি—এসব কোম্পানি বর্তমানে মেক্সিকোয় পণ্য তৈরি করলেও ভবিষ্যতে তা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া অ্যাপলের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী চীনা কোম্পানি লাক্সশেয়ারের প্রধান জানিয়েছেন, তারা ধাপে ধাপে চীনের বাইরে উৎপাদন সরিয়ে আনার কথা ভাবছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও থাকতে পারে।

ইতালির কফি প্রস্তুতকারক ইলিক্যাফে ও লাভাজ্জা যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। লাভাজ্জা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ কফি বিক্রি করে, তার অর্ধেক দেশটিতেই তৈরি হয়। ভবিষ্যতে তারা পুরো উৎপাদনই যুক্তরাষ্ট্রে করতে চাচ্ছে।

চকোলেট কোম্পানি ব্যারি কাল্লেবো, ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও স্যানোফি এবং ইলেকট্রনিকস কোম্পানি কমপাল ও ইনভেন্টেক—সবাই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা বানানোর বা বিদ্যমান কারখানা বড় করার পরিকল্পনা করেছে। কেউ কেউ এরই মধ্যে কোন অঙ্গরাজ্যে কারখানা হবে তা ঠিক করতে জমি খোঁজাও শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুটি কারণে কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্য নিয়ে টানাপড়েনের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন চাপের মুখে পড়েছে।

তবে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে সম্প্রতি কিছু কোম্পানির পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যেমন চীনা বিনিয়োগকারীর কারণে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ স্থগিত রেখেছে ইতালির টায়ার কোম্পানি পিরেলি।

অনেক কোম্পানি শুধু উৎপাদন নয়, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নেও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে চাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রবণতা আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আরো বাড়াবে। এতে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। কারণ কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র এক দেশে কেন্দ্রীভূত করতে শুরু করেছে।

আরও